বিশ্ববাজারে বাড়ছে দেশীয় জুতার কদর – Naz Shoes

//বিশ্ববাজারে বাড়ছে দেশীয় জুতার কদর – Naz Shoes

বিশ্ববাজারে বাড়ছে দেশীয় জুতার কদর

  ইয়াসিন রহমান ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় জুতার কদর বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে রফতানি আয়। ২০১১-১২ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আয় বেড়েছে দ্বিগুণ। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। বিশ্ববাজারে চামড়াজাত অন্যান্য পণ্যের চেয়ে জুতা রফতানিতে আয় বেশি। তাই আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে কারিগরি জ্ঞান ও শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারকে আরও সহযোগিতা করতে হবে। এতে এ খাতে আরও কয়েক লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান বাড়বে। আর জুতা শিল্পের প্রসার ঘটবে। ফলে তৈরি পোশাকের সঙ্গে জুতার আন্তর্জাতিক বাজারও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আসবে। সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে।

লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, জুতা রফতানি দিন দিন বাড়ছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো আলাদাভাবে কমপ্লায়েন্স কারখানা স্থাপন করায় রফতানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে। জুতা এবং অন্যান্য চামড়াজাত পণ্যে রফতানি আয় বাড়ানোর আরও সুযোগ রয়েছে। তবে পরিবেশ ইস্যুতে পিছিয়ে পড়ছে চামড়া খাত। পরিবেশদূষণ রোধে হাজারীবাগ থেকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারি স্থানান্তর করা হয়েছে; কিন্তু চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার কার্যকরভাবে চালু না হওয়ায় এ খাত জটিলতায় পড়েছে। বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা কমপ্লায়েন্স (পরিবেশবান্ধব) কারখানার পণ্য নিতে চায়। পরিবেশ ইস্যুতে চামড়া রফতানি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন বিশ্ববাজারে রফতানি বাড়াতে পরিবেশ ইস্যু বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে শিল্পনগরীতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য শোধনাগার কার্যকরভাবে চালু করা গেলে রফতানিতে এগোনো সম্ভব হবে। একটু কষ্টকর হলেও ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

ইপিবি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, আলজেরিয়া, ইকুয়েডর, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুরসহ ৮৮টি দেশে জুতা রফতানি হচ্ছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১১-১২ অর্থবছরে জুতা রফতানিতে আয় হয় ২৩ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ৩০ কোটি ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩৮ কোটি ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪৮ কোটি ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪৯ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৪ কোটি ডলার। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭ কোটি ডলার। ইপিবির পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত সাত অর্থবছরে এ খাতে রফতানি আয় বেড়েছে দ্বিগুণ।

চাড়রাজাত অন্যান্য পণ্যের রফতানি আয় পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আয় হয় ৩৪ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৬ কোটি ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৯ কোটি ডলার, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৫ কোটি ডলার, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২৪ কোটি ডলার, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৬ কোটি ডলার, আর ২০১১-১২ অর্থবছরে রফতানি আয় হয় ১০ কোটি ডলার। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত সাত অর্থবছরে জুতা রফতানিতে মোট আয় হয় ২৯৯ কোটি মার্কিন ডলার। এসময় চামড়াজাত অন্যান্য পণ্য রফতানিতে আয় হয় ১৯৪ কোটি ডলার। সেক্ষেত্রে চামড়াজাত অন্যান্য পণ্যের চেয়ে জুতা রফতানিতে আয় বেশি হয় ১০৫ কোটি ডলার।

সম্প্রতি ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) উদ্যোগে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ফুটওয়্যার নিয়ে একটি বিশেষ কর্মশালা হয়। সেখানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, চামড়া বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রফতানি পণ্য। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ উন্নতমানের চামড়া উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। ফলে ফুটওয়্যার বা জুতার উন্নত কাঁচামাল রয়েছে এখানে। রয়েছে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি। আধুনিক ও বিশ্বমানের ফুটওয়্যার কারখানা গড়ে উঠছে। এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগও আসছে। ফলে বাংলাদেশ তৈরি পোশাকের মতো কম মূল্যে উন্নতমানের ফুটওয়্যার তৈরি ও রফতানি করতে সক্ষম। তাই এরই মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বমানের ফুটওয়্যার তৈরি ও রফতানি শুরু করেছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, বাজার ধরতে আমাদের কারিগরি জ্ঞান ও শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। ইউরোপে রফতানি বাড়াতে হলে পণ্যে

বৈচিত্র্য আনতে হবে। সাধারণ জুতা তৈরি করে বাজার ধরা যাবে না।

 

Courtesy of: Jugantor.com

https://www.jugantor.com/todays-paper/economics/85896/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A6%B0

2018-09-02T09:33:17+00:00